চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গের পাহারাদার মো. সেলিম বিকৃত যৌনাচারের দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল দেবের আদালত এই জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
সিআইডি চট্টগ্রাম জেলা ও মেট্রোর পুলিশ সুপার (এসপি) শাহনেওয়াজ খালেদ বলেন, রিমান্ড শেষে আজ সেলিমকে আদালতে হাজির করা হলে ঘটনার দায় স্বীকার করেন তিন।
জানা গেছে, গত সোমবার এক নারী ও এক কন্যাশিশুর মরদেহ ধর্ষণের অভিযোগে চমেক হাসপাতাল মর্গের পাহারাদার মো. সেলিমকে গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তিনি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার মৃত নোয়াব আলীর ছেলে। চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট খাজা রোড এলাকায় একটি বাসায় থাকতেন সেলিম। তিনি অস্থায়ী ভিত্তিতে হাসপাতাল মর্গের পাহারাদার হিসেবে কাজ করতেন।
জানা যায়, ২০২১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি নগরের চকবাজার থানা এলাকা থেকে আনুমানিক ৩২ বয়সী এক নারীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চমেক মর্গে প্রেরণ করে পুলিশ। একই বছরের ২৫ এপ্রিল ১২ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চমেক মর্গে প্রেরণ করে পুলিশ। মৃত্যুর পূর্বে ধর্ষণ হয়েছে কি না জানার জন্য মর্গের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক মরদেহ দুটি থেকে বীর্যের নমুনা সিআইডির ল্যাবে প্রেরণ করেন।
সেখানে দুই মরদেহে একই ব্যক্তির বীর্য পাওয়া যায়। এরপর চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করে সিআইডি। তবে তদন্তকালে দুই মরদেহের ক্ষেত্রে মৃত্যুর আগে ধর্ষণের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তারপরও পেছনে লেগে থাকে সিআইডি। একপর্যায়ে তদন্তে পাওয়া যায় দুটি মরদেহ ময়নাতদন্তের পূর্বে দীর্ঘক্ষণ চমেকের মর্গে ছিল।
আবার ওই মর্গের পাহারাদার ছিলেন সেলিম। সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে সেলিম ওই দুই মরদেহের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচার করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়। এরপর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চমেক হাসপাতাল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। একই দিন তার বিরুদ্ধে নগরের পাঁচলাইশ থানায় সিআইডি চট্টগ্রাম জেলা ও মেট্রো ইউনিটের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কৃষ্ণ কমল ভৌমিক বাদী হয়ে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করেন।
এর ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে এবং সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করে সেলিমকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল হালিমের আদালত তাকে তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড আজ আদালতে হাজির করা হলে সেলিম ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেন।
এদিকে সেলিমের বিরুদ্ধে সবশেষ দায়ের হওয়া মামলার এজাহারে তার বিরুদ্ধে আগেও একটি নারী নির্যাতনের মামলার থাকার বিষয় উল্লেখ ছিল। এরপর ওই মামলার বিষয়ে আদালত থেকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেটি একটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলা ছিল। যে মামলায় সেলিম গ্রেফতার হয়ে কারাভোগ করেন। তাছাড়া তিনিসহ মোট তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটিতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। তবে বিচারিক প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবে মামলাটি থেকে খালাস পান সেলিম।
Leave a Reply